মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফল সফর শেষ করে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি চীনের দালিয়ান শহরের উদ্দেশে রওনা হন।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান। এ সময় কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাই কমিশনার শাহানারা মল্লিকাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই যাত্রার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যাত্রা শুরু করেছেন। দালিয়ানে দুইদিন তিনি কর্মব্যস্ত কর্মসূচিতে থাকবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন, যেখানে তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের চার মাস পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরের প্রথম দুই দিন অর্থাৎ ২৩ ও ২৪ জুন দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত 'সামার দাভোস' নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্ভাবন ও ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজেও অংশ নেবেন তিনি। পরদিন ২৪ জুন সকালে ১৭তম বার্ষিক সামার দাভোসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর দুপুরে ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
বেইজিং সফরকালে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘ডায়াওইউতাই গেস্ট হাউজে’ অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ জুন সকালে তাঁর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অব সিপিসি সেক্টর কমিটি, পানিসম্পদ মন্ত্রী, সিটকা চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের আলাদা আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
২৫ জুন বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র সচিব জানান, এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল বিষয় এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের শেষ দিন ২৬ জুন সকালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ওই দিনই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে আগামী ২৬ জুন বিকেলেই বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ওই দিন সন্ধ্যায় তার ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।