নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক নারীকে নির্যাতন করে হত্যা মামলায় তার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নেত্রকোণার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. নুরুল কবির রুবেল।
শফিকুল ইসলাম (৪২) উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে।
পিপি নুরুল কবির বলেন, “প্রায় ১০ বছর আগে বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের সোনা মিয়ার মেয়ে পারভীন আক্তারের সঙ্গে শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে শফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা পারভীনের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন।”
২০১৯ সালের ২৫ মার্চ শফিকুল ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পারভীন টাকা দিতে না চাইলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হলে পারভীন আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান।
তিনি বলেন, “স্বামীর বাড়িতে ফেরার এক মাস পর গত ২৬ এপ্রিল রাতে পারভীনের মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। খবর পেয়ে স্বজনরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরের বারান্দায় পারভীনের মরদেহ দেখতে পান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর পারভীনের ভাই মো. আবু ইউসুফ বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন বলে জানায় পিপি নুরুল কবির।
মামলায় শফিকুল ইসলাম, তার বাবা তোরাব আলী, মা সখিনা খাতুনসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয় বলে জানান তিনি।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুরুল কবির।