টাঙ্গাইলে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে মোয়াজ্জেমসহ গ্রেপ্তার ২

টাঙ্গাইলে গৃহবধূ নাজমা আলমকে হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মসজিদের মোয়াজ্জেমসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন—মসজিদের মোয়াজ্জেম দেলদুয়ার উপজেলার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন (৪২) ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি)  এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নাজমা টাকা ধার দিতে রাজি না হওয়ায় মোশারফ তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের অংশ, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের সময় গলার স্বর্ণের চেইন ও বালা নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার গ্রেপ্তার হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তিনি আরও জানান, মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ঋণে জর্জরিত ছিল। সে নাজমার কার থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নেয়। আবার অন্য কারও কাছ থেকে ধার নিয়ে নাজমার ধার পরিশোধ করে। রবিবার সকালে মোশারফ নাজমা বাসায় গিয়ে ১ লাখ টাকা ধার চায়। এসময় নাজমা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মোশারফ বিষয়টি মেনে নিতে না পারায় ঘরে থাকা হাতুড়ি দিয়ে নাজমার মাথায় আঘাত করে। পরে নাজমার হাত ও গলায় থাকা স্বর্ণ নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মোশারফ নাজমাকে হত্যা করে এবং সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে গৃহবধূ নাজমা আলমকে নিজ বাড়িতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।