Wednesday, July 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাবিতে শৌচাগারে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ, আটক ১

অভিযুক্ত গত ৬ মাস ধরে গোপনে ভিডিও ধারণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শৌচাগারে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণকালে বহিরাগত এক যুবককে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গত ছয় মাস ধরে ওই যুবক গোপনে ভিডিও ধারণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবক রিয়াজ আহমেদ কেরানীগঞ্জ এলাকার উত্তর বাহেরচর এলাকায় থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বিশ্বকাপ ফুটবলের ব্রাজিল বনাম জাপানের খেলা দেখছিলেন শিক্ষার্থীরা। খেলা শেষে ছাত্রীদের কয়েকজন টিএসসির ওয়াশরুমে যান। এ সময় ছাত্রীদের ওয়াশরুমে কোনো পুরুষ ঢুকে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে গেছেন, এমন সন্দেহ করেন একজন। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে কয়েকজন ছাত্রী ওই যুবককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে দেখতে পান, তিনি ওয়াশরুমের দরজার ছোট ছিদ্র দিয়ে ভিডিও ধারণ করেছেন।

তারা আরও জানান, রিয়াজের ফোনের গ্যালারিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ছাত্রীদের এমন স্পর্শকাতর ভিডিও পাওয়া যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন তাকে পিটুনি দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপত্তাশাখার কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক ফটকে নিয়ে যান। আশুলিয়া থানার পুলিশ প্রান্তিক ফটকে আসে। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রান্তিক ফটকে গেলে প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে চলে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পুলিশকে ফোন করে আবার ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এরপর ভোর ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দেন এবং মামলা করার জন্য আশুলিয়া থানায় যান।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সীমান্ত বলেন, “যখন রিয়াজের ফোন চেক করা হয়, তখন সেখানে ১৪০টির মতো ভিডিও পাওয়া যায়।”

এদিকে অভিযুক্ত রিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখানো হয় শুনে আমি আসছিলাম। পরে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় আমার এক বন্ধু আমার কাছ থেকে ফোন নিয়ে ভিডিও করতে গেছিল। আমি তার পেছনে পেছনে গিয়েছিলাম, পরে সে দৌড়ে পালায় গেছে।”

তার ফোনে গত ছয় মাসের ভিডিও কীভাবে এলো—এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এর আগেও ক্যাম্পাসে এসেছি। সে সময় কিছু ভিডিও করেছিলাম।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ করত এক যুবক। বহিরাগত ওই যুবককে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে এবং মামলা করা হবে।”

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় আমরা ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রুজু করে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

   

About

Popular Links

x