Tuesday, June 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অনুমোদনহীন চিপসে বিষক্রিয়ায় হাসপাতালে ১২ শিক্ষার্থী

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সংশ্লিষ্ট দোকান সিলগালা করা হয়েছে

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থী এবং এক নারী অভিভাবক অনুমোদনহীন খোলা চিপস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দোকান সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোকান মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার বড়দূর্গাপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি।

জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বড়দূর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকান থেকে খোলা চিপস কিনে খায়। অভিযোগ রয়েছে, চিপসগুলো ডিটারজেন্টের প্যাকেটসদৃশ মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছিল। কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটব্যথা, বমি শারীরিক অস্বস্তিসহ খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের সঙ্গে একজন নারী অভিভাবকও অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। অন্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়েছে।

মৈত্রী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিব রেজোয়ান জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ এক শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হলেও বর্তমানে অন্যরা শঙ্কামুক্ত।

ঘটনার পর বন, পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী . শেখ ফরিদুল ইসলাম হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

বড়দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাংশু রায় বলেন, “ঘটনার পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সুস্থ রয়েছে।“

রামপাল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, “শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের শিশুদের জন্য নিরাপদ অনুমোদিত খাদ্যপণ্য কেনার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।“

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণে দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে এবং দোকান মালিক মনোরঞ্জন মণ্ডলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

   

About

Popular Links

x