Tuesday, June 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এবার অনলাইন জুয়া-বেটিং রোধে পাস হলো কঠোর আইন

সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করেন

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার মরণনেশা রুখতে ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করেন। পরে তা উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়। একই দিনে সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে।

পাস হওয়া জুয়া প্রতিরোধ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট-১৮৬৭’ দেড়শতাধিক বছরেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় বর্তমান ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে এই আইনি কাঠামো অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। এই কারণেই পুরোনো আইনটি রহিত করে কঠোর সাজার বিধান রেখে যুগোপযোগী নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন এই আইনে ‘অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া’, ‘অনলাইন বেটিং’ (স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং ইত্যাদি), ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’, ‘ঘোস্ট সিম’ এবং ‘ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট’ বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া জুয়ার সরঞ্জামাদি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

অপরদিকে, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তাও সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, যেখানে এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখতে মূলত পূর্বের আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে জুয়া এবং বেটিং সংক্রান্ত অপরাধগুলো আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিরোধের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করেছে। একটি বিশেষায়িত আইন তৈরি হওয়ার কারণেই একই অপরাধের জন্য একাধিক আইনের ওভারল্যাপিং বা আইনি জটিলতা এড়াতে সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে ধারাটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনী বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

   

About

Popular Links

x