ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার অন্তত ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথার সমস্যা নিয়ে শ্রমিকরা হাসপাতালে আসেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে কি কারণে শ্রমিকরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া আমতলা এলাকার ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড নামে এক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শ্রমিক ও কারখানার কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে যোগ দেন তারা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ শ্রমিকদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে আনা হয়। কারখানাটিতে প্রায় ১,১০০ শ্রমিক কাজ করে। আনুমানিক ৪০-৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের প্রথমে কারখানার মেডিকেল সেন্টার ও পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
কারখানার সুইং বিভাগে কাজ করা সামিউল ইসলাম নামে এক শ্রমিক বলেন, “প্রতিদিনের মতো আমরা সবাই কাজে এসেছিলাম। হঠাৎ মেশিনের ভেতর থেকে একটা গন্ধ আসে। এরপর আমাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকে। হাত-পা অবশ হয়ে আসে, বমি বমি ভাব হচ্ছিল, মাথা ঘুরে পড়ে যাই। পরে আমাদের নিচে মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। যারা প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে গেছেন, তাদের সেখানেই রাখা হয়েছে। আর যাদের অবস্থা সেখানে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের কোম্পানির গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
কারখানার ফায়ার সেফটি অফিসার নাহিদ বলেন, “সকালে আমরা গেটে কর্মীদের চেক করছিলাম। যাদের শরীর একটু খারাপ ছিল, তাদের বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল, আপনারা বিশ্রাম নিন, সুস্থ হয়ে তারপর ডিউটি করবেন। এরপর সব কিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। সকাল ১০টা থেকে ১১টার দিকে হঠাৎ ফ্লোর থেকে একের পর এক কর্মী মেডিকেল সেন্টারে আসতে শুরু করেন। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। যাদের সমস্যা বেশি ছিল, তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন। এখন মোটামুটি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।”
সাভার ল্যাবজোন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবদুল আহাদ বলেন, “একসঙ্গে অনেক রোগী আমাদের এখানে এসেছেন। তাদের প্রধান সমস্যা ছিল শ্বাসকষ্ট। কয়েকজনের বমি এবং কারও কারও মাথা ঘোরার উপসর্গ ছিল। আমরা প্রাথমিকভাবে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা দিয়েছি। যাদের অবস্থা তুলনামূলক বেশি খারাপ ছিল, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এখন বেশির ভাগ রোগীর অবস্থাই স্থিতিশীল। যারা ভালো আছেন, তাদের পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এখানে মোটামুটি ২০ জনের কাছাকাছি রোগী এসেছেন।”