ঢাকার সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৫ বছর বয়সী রিপন ঋষিকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মারধরের ফলে তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে সে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার জেরে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন সামিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সামিরকে সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহবুব হোসেন সামির।
ভুক্তভোগী রিপন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার জীবন ঋষির ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভার পৌরসভার রাজাসন এলাকায় বসবাস করেন।
রিপনের ভগ্নিপতি স্বপন সূত্রধর জানান, ৩০ মে রাজাসনের পালোয়ান মার্কেটের সামনে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় সামিরের এক সহযোগীর সঙ্গে রিপনের ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি সামিরকে জানানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২ জুন সামিরের নির্দেশে মানিক ও সজীব নামে দুই সহযোগী রিপনকে পালোয়ান মার্কেটে অবস্থিত একটি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাকে কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথা বারবার দেয়ালে আঘাত করা হয় এবং দুই চোখেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বাসার কাছে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
রিপনের মা আসন্তি ঋষি জানান, প্রথমে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট এবং এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পরও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় এবং অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে পরিবার তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মাথায় গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পাশাপাশি চোখে আঘাতের কারণে রিপনের দুই চোখই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সে কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।
পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে, মামলার আসামি হওয়ায় কেন্দ্রীয় নির্দেশে মাহবুব হোসেন সামিরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদল ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল।
তিনি বলেন, “অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না মিললে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।”
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, শুক্রবার রাতে সামিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।



