গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়ের একাদশে একসঙ্গে ১০টি পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়াল। হালান্ডসহ একাধিক নিয়মিত তারকাকে বেঞ্চে রেখে নামা দলটি ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। ওসমান ডেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে পরাজয় সত্ত্বেও রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেছে নরওয়ে।
শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ফ্রান্স। প্রথম মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পের শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পাঁচ মিনিট পর মালো কুন্দের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক এগিল সেলভিক।
তবে সপ্তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। এমবাপ্পের পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর ডান পায়ের জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন ওসমান ডেম্বেলে। ২০ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
দুই গোল হজমের পরপরই ম্যাচে ফেরার আভাস দেয় নরওয়ে। শেলদেরুপের পাস থেকে থেলোনিয়াস আসগার্ড গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন।
তবে সেই আশাও দ্রুত শেষ করে দেন ডেম্বেলে। ৩২ মিনিটে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম হ্যাটট্রিক, আর বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় ফরাসি ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।
প্রথমার্ধেই আরও কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে ফ্রান্স। এমবাপ্পে, জুলস কুন্দে ও দেজিরে দুয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বিরতির আগেই আরও বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারত তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করলেও জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনের দুর্বল শট সহজেই রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে ফ্রান্স। এমবাপ্পেও কয়েকটি ভালো সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পাননি। অন্যদিকে নরওয়ের আক্রমণও একের পর এক ব্যর্থ হয় মেনিয়াঁর দৃঢ়তায়।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে ফ্রান্সের চতুর্থ গোলটি করেন সতীর্থ ফরোয়ার্ড। তাতেই ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এই জয়ে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। আর ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেছে নরওয়ে।



