Friday, June 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে শীর্ষে এগিয়ে কে?

বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেশি সময় ফরোয়ার্ডরাই এই পুরস্কার জিতেছেন

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষের পথে। দলগুলোর মূল লক্ষ্য শিরোপা জয় হলেও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি গোল্ডেন বল জয়ের লড়াইও সমানভাবে জমে উঠেছে। টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই দৌড়ে সবার ওপরে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও মাইকেল ওলিসে।

গোল্ডেন বল কেবল সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার নয়। পুরো টুর্নামেন্টে একজন ফুটবলারের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব, ম্যাচে প্রভাব ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ভোটে এই সম্মাননা নির্ধারণ করা হয়। তাই গোলের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একমাত্র বিবেচ্য নয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেশিরভাগ সময় ফরোয়ার্ডরাই এই পুরস্কার জিতেছেন। তবে মিডফিল্ডার ও গোলরক্ষকের হাতেও উঠেছে গোল্ডেন বল। পাওলো রোসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, রোমারিও, রোনালদো, অলিভার কান, জিনেদিন জিদান ও দিয়েগো ফোরলানের মতো কিংবদন্তিরা এই সম্মান জিতেছেন। বর্তমানে খেলছেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে কেবল লিওনেল মেসি ও লুকা মদ্রিচ গোল্ডেন বলের স্বাদ পেয়েছেন।

২০১৪ ও ২০২২ সালে গোল্ডেন বল জিতে ইতিহাসের একমাত্র দুইবারের বিজয়ী হয়েছেন মেসি। এবার টানা দ্বিতীয়বার এবং ক্যারিয়ারের তৃতীয় গোল্ডেন বল জয়ের লক্ষ্যে খেলছেন তিনি। অন্যদিকে এমবাপে ছাড়াও ব্যালন ডি'অরজয়ী উসমান দেম্বেলে, স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনহাও রয়েছেন আলোচনায়।

৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হওয়ায় এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাব্য গোল্ডেন বলজয়ীর সংখ্যাও আগের চেয়ে বেশি। নকআউট পর্বে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নতুন কোনো তারকাও শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে পারেন।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তৃতীয় রাউন্ড চলাকালে ফুটবলভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গোল ডটকম তাদের সর্বশেষ গোল্ডেন বল পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। সেখানে টুর্নামেন্টের বর্তমান পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ ফুটবলারের তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকার ১০ নম্বরে রয়েছেন নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপো। জাপানের বিপক্ষে গোল না পেলেও সুইডেনের বিপক্ষে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে আলো ছড়িয়েছেন তিনি।

নবম স্থানে আছেন স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল না পেলেও একাধিক সুযোগ তৈরি করেন তিনি। পরে সৌদি আরবের বিপক্ষে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অষ্টম স্থানে রয়েছেন সুইডেনের আলেক্সান্ডার ইসাক। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করার পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও দলের একমাত্র গোলটি আসে তার তৈরি করা সুযোগ থেকে।

সপ্তম স্থানে আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরের ম্যাচে সহজ সুযোগ নষ্ট করে সমালোচনার মুখে পড়েন। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন জার্মানির ডেনিজ উনদাভ। দুই ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে জার্মানিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

পঞ্চম স্থানে আছেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নেইমার পুরোপুরি ফিট না থাকা এবং রাফিনহার চোটের কারণে আক্রমণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করার পাশাপাশি তিন ম্যাচেই ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপ অভিষেকেই চার গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

তৃতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে। গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টেই বেশি আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে এমবাপে ও দেম্বেলের একাধিক গোলে সহায়তা করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। দুই ম্যাচে চার গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফরাসি ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও মেসির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত তারকা তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নিয়েছেন। আর্জেন্টিনার এখন পর্যন্ত করা পাঁচটি গোলই এসেছে তার পা থেকে। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সই তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

 

   

About

Popular Links

x