Friday, October 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লজিং শিক্ষকের ধর্ষণে ১৫ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

ধর্ষণের অভিযোগে লজিং শিক্ষক ও স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে লজিং শিক্ষক ও স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই ঘটনার পর কিশোরী বর্তমানে প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খেরুয়াজানী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার ভিটিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ ভুক্তভোগী কিশোরীর ফুফাতো ভাইয়ের সহপাঠী হওয়ায় তাদের বাড়িতে লজিং থাকতেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। কিশোরীর বাবা-মা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করায় তিনি গ্রামের বাড়িতে দাদির সঙ্গে বসবাস করতেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ২২ নভেম্বর রাতে পড়াশোনার সময় কিশোরীর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন আব্দুল্লাহ। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয় ও সামাজিক লজ্জার কারণে দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখে কিশোরী।

কয়েক মাস পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে তার দাদির সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সে ২৭ সপ্তাহের, অর্থাৎ প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনার কথা জানায় কিশোরী এবং অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার বাবা থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, "লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন কাউকে কিছু বলিনি। এখন আমি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।" 

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে এর আগে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আবেদনও আদালতে করা হয়েছে।

   

About

Popular Links

x