সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করে নতুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা হয়েছে। কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। সোমবার (১৭ আগষ্ট) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রতিটি পদের বিপরীতে দুজন করে, অর্থাৎ মোট ছয়জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করেছিল সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটি। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান ও দুজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন, এর আগে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কমিশনার হিসেবে নাম চূড়ান্ত হওয়া ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন সাবেক সচিব।
গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। দুদক আইন অনুযায়ী, সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেন।
নতুন এই তিনজনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিশন ফিরে পেল দুদক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। এরপরই চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে আসাদুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করেন রাষ্ট্রপতি।



