সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অন্তরীণ সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনে কারামুক্ত হওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী। তবে এই প্রক্রিয়ায় দুদকের কোনো প্রকার গাফিলতি ছিল না দাবি করে তিনি জানান, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী এসব কথা বলেন।
কারামুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা গণমাধ্যমকর্মী ও পত্রপত্রিকার মারফতে যেভাবে সংবাদটি জেনেছেন, আমরাও একইভাবে জেনেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত আইনগত যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।’’
দুদকের গাফিলতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ডিজি স্পষ্ট করেন, ‘‘এখানে দুদকের অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বা আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আইনি কর্তৃত্ব হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিয়ম অনুযায়ী আমরা পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ (এমএলএ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই, যা পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাত ধরে সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছায়। আমাদের তরফ থেকে যা যা দাপ্তরিক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল, তার সবটুকুই যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল।’’
একই প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সাবেক এই আইজিপির মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি দুবাইয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়নি। এনসিবি আবুধাবি থেকেও এখনো নতুন কোনো লিখিত বার্তা আসেনি।
উল্লেখ্য, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে স্ত্রী-সন্তানসহ চারটি পৃথক মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার পর তিনি দেশত্যাগ করলে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত।



