‘খুচরা টাকার অভাবে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে’

খুচরা পয়সার হিসাবের মারপ্যাঁচে নিম্নমানের প্রতি শলাকা সিগারেটে ক্রেতাদের ৮০ পয়সা বেশি দিতে হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তিনি উল্লেখ করেন, এই অতিরিক্ত ৮০ পয়সা সরকার পায় না, যার ফলে বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, বাজেট তখনই অর্থবহ হবে যখন তা সঠিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব হবে। তবে সরকারের বাজেটে ঘোষিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব উত্তোলন করা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন হয়ে যাবে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, বাজেট যদি ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হতো, তবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিশাল বোঝা জনগণের ওপর আসতো না।

রাজস্ব ঘাটতি পূরণে কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো-কমানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই প্রতিনিধি। তামাকজাত পণ্যের খুচরা বিক্রির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে নিম্নমানের একটি সিগারেটের নির্ধারিত দাম ৬ টাকা ২০ পয়সা। কিন্তু বাজারে খুচরা পয়সার সংকটের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের দোকানদারের কাছ থেকে এটি কিনতে হচ্ছে ৭ টাকায়। নিয়মানুযায়ী এই অতিরিক্ত ৮০ পয়সা সরকারের কোষাগারে যায় না। সরকার যদি সঠিক তদারকির মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করতে পারত, তবে বছরে আরও ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হতো।

বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রাজস্ব ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।