ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে সুমন মুন্সি (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভাঙ্গা গোলচত্বর ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে অন্তত ২৬টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে কয়েক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তা দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনও সংঘর্ষে অংশ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙ্গা দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ২৬টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরিবারের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আহত হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন মুন্সির ছেলে ও স্থানীয় এক ফাস্টফুড ব্যবসায়ী সুমন মুন্সি। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে দাবি করেন স্বজনরা। বর্তমানে তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলেও তারা জানান।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জোবায়ের নাদিম জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মুখের চোয়ালের অংশ দিয়ে গুলিসদৃশ বস্তু প্রবেশ করে মাথার এক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রেফার করা হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই জিহাদ মুন্সি অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে দুই গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে মারধরের ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হলে হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন এসে তাদের গ্রামের তিনজনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিতে গেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সজীব মাতুব্বর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। তার ছোড়া গুলিতেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় সংঘর্ষ হয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সুমন মুন্সির মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে পেরেছি। ঘটনার তদন্ত চলছে।”