কক্সবাজারগামী নভোএয়ার বিমান উড্ডয়নের পর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণ

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ফিরে আসে। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নভোএয়ারের বিজিকিউ ৯৩৫ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য যাত্রীরা ছিলেন।

হুমায়ুন কবির জানান, উড্ডয়নের প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) না হওয়ায় যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়। ক্যাপ্টেন একাধিকবার চেষ্টা করেও ল্যান্ডিং গিয়ার ওপরে তুলতে না পারায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ অবতরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিমানটি প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট আকাশে অবস্থান করে। এরপর সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ঘটনার সময় বিমানের ভেতরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের কান্না ও যাত্রীদের উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে। তবে ক্যাপ্টেনের দক্ষতা ও সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

তিনি জানান, তিনি বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ নন। তবে তার মতে, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ক্যাপ্টেন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিই ছিল যথাযথ।

ঘটনার পর বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর উড়োজাহাজের ফিটনেস পরীক্ষা আরও কঠোর করার আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বিশেষ করে পুরোনো উড়োজাহাজের কারিগরি সক্ষমতা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।