নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায় একটি বাড়িতে অভিযানের নামে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি, অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খায়রুল বাশার, সদর মডেল থানার কনস্টেবল মো. আফিকুল ইসলাম, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত মিরাজ ইসলাম শুভ ও মো. রানা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামতলা ধোপাপট্টি এলাকায় সুমা আক্তারের বাড়িতে সাদা পোশাকে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই খাইরুল বাশার ও কনেস্টেবল আফিকুল ইসলাম দুজন সোর্সকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এসময় তাদের মধ্যে কনস্টেবল আফিকুল ইসলাম আলমারির একটি ড্রয়ার থেকে স্বর্ণের একটি চেইন তার পকেটে ভরে নেওয়ার অভিযোগ উঠে।
এতে বাড়ির লোকজন তাদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চান। তখন তারা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এমন অভিযোগ তুলে বাড়ির লোকজন চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘরে প্রবেশ করে দুই পুলিশসহ ৪ জনকে পিটুনি দেন। এরপর ফতুল্লা থানায় ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ৩ জুলাই সুমা আক্তার বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় ৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী সাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ফতুল্লা থানার এসআই খায়রুল বাশার ও সদর মডেল থানার কনস্টেবল আফিকুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দুইজন সোর্সকে নিয়ে জামতলা ধোপাপট্টি এলাকায় মাদক উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগী সুমা আক্তারের বাড়িতে যায়। ওই সময়ে তারা গহনা চুরি করে। ওই ঘটনায় সুমা আক্তার বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়। এই ঘটনায় এসআই খায়রুল বাশার, কনস্টেবল আফিকুল ইসলাম, সোর্স মিরাজ ইসলাম শুভ ও রানাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে এসআই ও কনস্টেবলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খায়রুল বাশার ও সদর মডেল থানার কনস্টেবল মো. আফিকুল ইসলামসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে করাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।”