ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনার আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন। তিনি বলেন, “তদন্তে কোনো সম্ভাবনাকেই সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না।”
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এসপি শামীমা পারভীন বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ঘটনাস্থলে যান। এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে শুরু থেকেই পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।”
তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর মঞ্চে উপস্থিত এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলের শীর্ষ নেতাদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, “বিস্ফোরণের ঠিক আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কেন ওই সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।”
ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান এবং সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ। প্রয়োজনে তদন্তের স্বার্থে কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান এসপি।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি, জুলাই যোদ্ধা মো. ইউনুস আলী ও আজহারুল ইসলাম তামিম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ডের ঈদগাহ মাঠে এনসিপির জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, সমাবেশে ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দেওয়ার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সে সময় মঞ্চে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকলেও তারা অক্ষত ছিলেন।
ঘটনার পর নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন। পরে তিনি আহতদের দেখতে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
বিস্ফোরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।