প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, এবার মালয়েশিয়া সরকারের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এবার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি এড়াতে এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমেই সব আইনি জটিলতা কাটিয়ে এই শ্রমবাজার আবারও সচল করা সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও যারা শেষ মুহূর্তে আটকা পড়েছিলেন, এমন ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক সংস্থা ‘বোয়েসেল’কে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার কর্মী ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন এবং অবশিষ্ট কর্মীদের মালয়েশিয়া পাঠাতে সরকার দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এর আগে ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শ্রমবাজারটি প্রথম বন্ধ হয়। ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হলেও দুর্নীতির কারণে ২০১৮ সালে আবার কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় কুয়ালালামপুর। এরপর ২০২২ সালের আগস্টে বাজারটি খুললেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়ে যায়।
সিলেটের সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শুধু মালয়েশিয়াই নয়, অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য, জাপান ও মরিশাসের শ্রমবাজার নিয়েও বড় সুখবর দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরকার বিকল্প ও নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফর ও কূটনৈতিক তৎপরতার জেরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় সচল হওয়ার খবরে বিদেশ গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত না রাখলে দীর্ঘমেয়াদে এই বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।