সিলিন্ডারে লুকানো ছিল ১ লাখ ইয়াবা, ডিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে উধাও মাইক্রোবাস চালক

কুমিল্লায় গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা এক লাখ পিস ইয়াবাসহ একটি মাইক্রোবাস ডিবি পুলিশের তল্লাশি এড়িয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে চালক তার সহযোগীরা মাদকের চালান নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া থেকে মাইক্রোবাসচালক আব্দুল মালেক ওরফে হাসান মাঝি এবং তার সহযোগী সৈয়দ নুর ওরফে নুরুল আমিন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি আটক করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

প্রাথমিক তথ্যে গাড়িটিতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা থাকার কথা জানানো হলেও ডিবি সদস্যরা পুরো গাড়ি তল্লাশি করেও কোনো মাদক উদ্ধার করতে পারেননি। পরে তথ্যদাতার দাবির ভিত্তিতে পদুয়ার বাজারের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে গাড়ির বিভিন্ন অংশ খুলেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেও ইয়াবার কোনো অস্তিত্ব না পাওয়ায় রাতে মাইক্রোবাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর চালক তার সহযোগীরা নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে ইয়াবার চালান অন্যত্র বিক্রি করে আত্মগোপনে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার ( জুলাই) রাতে কক্সবাজারের মাদক চক্রের সদস্যরা ডিবি পুলিশকে জানায়, ইয়াবাগুলো গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সিলিন্ডারটি এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল যে, সেটির সঙ্গে ইঞ্জিনের গ্যাস সংযোগও সচল ছিল। তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

কুমিল্লা ডিবির এসআই পবিত্র সরকার বলেন, “গাড়ির প্রায় প্রতিটি অংশ তল্লাশি করা হয়েছিল। তবে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে মাদক লুকানো থাকতে পারে, এমন ধারণা আমাদের ছিল না। তাই তথ্যটি ভুল মনে করে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।