টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড়ধসে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল ধসে দুটি বসতঘরের ওপর মাটি এসে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা বাসিন্দারা মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও লামা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
আজিজনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন জানান, মিশনপাড়ার মো. ইউনুচ ও তার স্ত্রী এবং মো. জুয়েলের স্ত্রী ও তাদের এক শিশু সন্তান পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, টানা ভারী বর্ষণের কারণে এলাকার আরো কয়েকটি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
ঘটনার পর লামা উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাহাড়ধসের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
এদিকে, অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে টানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা ও পাহাড় ধসের আশংকায় স্থানীয়দের নিরাপদে আশ্রয় নিতে জেলার ৭টি উপজেলায় ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত হয়েছে শিশুসহ ৫জন, মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, বান্দরবানে গত ২৪ ঘণ্টায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২১০মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।