Wednesday, July 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে স্থানীয়রা

আবহাওয়া অফিস জানায়, ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড  করা হয়েছে

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান শহর ও লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত বান্দরবানে ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত।

বান্দরবান আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগর, ইসলামপুর, বরিশাল পাড়াসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও উঠানে পানি ঢুকে পড়ে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, রাতের দিকে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

বৃষ্টিতে বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে নিচু এলাকায় ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

শহরের আর্মিপাড়ার বাসিন্দা মো. ফরিদ বলেন, “টানা বর্ষণে পানি বাড়ার কারণে আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র উঠেছি। প্রশাসন থেকে সেখানে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।”

এদিকে, টানা বৃষ্টি ও সাঙ্গু নদীতে পানি বৃদ্ধি ও পাহাড় ধসের কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে পর্যটনস্পট ও হোটেল মোটেলগুলোতে এখন পর্যটক শূন্য।

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবানে মোট ১৬১ জন পর্যটক আটকে পড়েছিলেন, তাদের সবাইকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সানিউল ফেরদৌস।

জেলার লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও বান্দরবান সদরে বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় অনেকেই উঠেছে আশ্রয়কেন্দ্রে। জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশের পাহাড় ও বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস হলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বান্দরবানের সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়সহ সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক হাজার পরিবারের অপরিকল্পিত বসবাস রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পরিবারগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে জেলা শহরে মাইকিং করেছে প্রশাসন।

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের পৌরসভার পক্ষ থেকে শুকনা খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে।

   

About

Popular Links

x