বেনাপোল বন্দরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কোটি টাকার পণ্য

টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের কয়েকটি শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ শেডগুলোর মধ্যে থাকা আমদানি করা মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে আমদানিকারকরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছে।

গত শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে বেনাপোলসহ পুরো শার্শা অঞ্চলে। একটানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩নং গেটের কয়েকটি শেডের মধ্যে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের আমদানি করা মালামাল। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় শত কোটি টাকার মালামাল।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মহসিন মিলন বলেন, “স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা জানালেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথা আমলে না নেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২-১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, “বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের কোটি কোটি টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।”

সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় আমদানিকারকদের।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজি রতন বলেন, “বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। তবে টানা দুইদিনের অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা করছেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”