গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ছয়দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ ও হরিনহাটি এলাকায় হাঁটুপানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ভোগান্তির কথা ভেবে বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার হরিনহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ, খাজার ডেক, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, আমতলা, মাইওয়ান, দিঘীরপাড় বটতলা, পূর্ব চান্দরাসহ ২০টির বেশি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
পৌরবাসী অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর দোকানপাট, বাসাবাড়ি, শিল্প কারখানা গড়ে তোলার কারণে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। এখানে প্রায় দুই শতাধিক শিল্প কলকারখানা রয়েছে। শিল্প কারখানার ভিতরে পানি জমে যাওয়ায় ১০ থেকে ১৫টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। বন্ধ রয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাশয় ভরাট, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হরিনহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ড্রেনের উপর দোকানপাট থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অপরদিকে মাইওয়ান মোড় থেকে ওয়ালটন ফ্যাক্টরি পর্যন্ত ড্রেনের উপর দোকানপাট গড়ে ওঠায় টানা বর্ষণের জলবদ্ধতা তীব্র আকারে ধারণ করেছে। খাবার পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে মানুষ।
জোড়াপাম্প এলাকায় একটি দোকানে চা পান করছিলেন নির্মাণ শ্রমিক সবদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “পাঁচদিন কাম-কাজ সব বন্ধ। ধারদেনা কইরা বাজার সদায় করতেছি। জানি না আরও কয়দিন এমন অবস্থা থাকে। এরকম মেঘ পড়তে থাকলে না খাইয়া থাকতে হবে।”
ভাঙা মসজিদ এলাকায় সড়কে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন একজন রিকশাচালক মাছুম মিয়া। গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ভিজে একাকার এই চালক বেলা সাড়ে ১১টায় বললেন, “সকাল ৭টার দিকে রিকশা নিয়ে বের হইছি। এখন বাজে সাড়ে ১১টা। সাড়ে ৪ ঘণ্টায় মাত্র ১৫০ টাকা কাম করছি। ভাড়ায় রিকশা চালাই। ৫০০ টাকা মালিকরে জমা (ভাড়া) দিতে হবে। এভাবে মেঘ পড়তে থাকলে রিকশার জমা কিভাবে দিব? ঘরে বাজারসদাই নেওয়া তো দূরের কথা। আজ ৫-৬ দিন যাবত একই অবস্থা।”
পৌরসভার হরিনহাটি এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, “টানা বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাস্তাঘাট এখনও জলাবদ্ধতায় রয়েছে। কিছু পানি নামলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবারে রান্না-বান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করেতেছে।”
কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “টানা বৃষ্টিপাতের কারণে খালের পানি ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করায় দ্রুত পানি নামতে পারছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”