গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ময়মনসিংহে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন চালকেরা।  

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা।পরে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারী অটোরিকশাচালকেরা।  

চালকদের ভাষ্যমতে, গ্যাসসংকট এখন আর এক দিনের নয়। কয়েক দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোর থেকেই দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। এতে প্রতিদিনের আয়ের বড় একটি অংশ হারাতে হচ্ছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালক ইদ্রিস আলী বলেন, “গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতেই দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়। এরপর আর আগের মতো ট্রিপ দেওয়া যায় না। আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

আরেক চালক ইকবাল হোসাইন বলেন, “নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে না পারায় যেমন তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও নির্ভরযোগ্য পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহের এই সংকট নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত ও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।” 

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন জানান, ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা অন্যতম প্রধান গণপরিবহন। এই খাতে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শুধু চালকদের আয়ই কমে না, পুরো যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়। এতে নগর ও জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।  

এদিকে অবরোধের কারণে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভোগান্তিতে পড়েন জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার যাত্রীরা। জামালপুরগামী যাত্রী রাশেদুল ইসলামের মতে, এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন। সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিব্বিরুল আহমেদ বলেন, “অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে বেলা ১২টার দিকে চালকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।”