বগুড়ায় তানজিলা ইয়াসমিন দীপা (২৫) নামে এক গৃহবধুকে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহের বাম হাতের কব্জি থেকে রক্ত ঝরছিল। পাশেই একটি কাঁচি পড়েছিল।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, এ ব্যাপারে নিহতের বোন সাবিনা ইয়াসমিন ভগ্নিপতির নাম উল্লেখ করে চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে মহানগরীর মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
জেলার স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা ও স্থানীয়রা জানান, নিহত গৃহবধু তানজিলা ইয়াসমিন দীপা মহানগরীর নারুলী আকন্দপাড়ার খয়বর প্রামানিকের মেয়ে। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাস্টার্সের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। প্রায় ১০ মাস আগে প্রথম স্বামীর সঙ্গে রিপার ছাড়াছাড়ি হয়। সে পক্ষের সাত বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে মহানগরীর শিববাটি এলাকার শেখ আবিরুল সানীর সঙ্গে দীপার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এরপর তারা মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো দীপার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। তার বাম হাতের কব্জির নিচে কাটা ও পাশে একটি কাঁচি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় স্বামী শেখ আবিরুল সানী বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে রাত ১০টার পর স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দীপার মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, দীপার মরদেহ দেখে হত্যাকাণ্ড মনে হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বামী সানী পালিয়ে গেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিহতের বোন সাবিনা ইয়াসমিন বুধবার সকালে ভগ্নিপতি সানীর নাম উল্লেখ করে চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এটি হত্যা না আত্মহত্যা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাস্টার্সের মেধাবী ছাত্রী তানজিলা ইয়াসমিন দীপার নিহতের ঘটনায় সহপাঠীরা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।