মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন এনসিপি নেতারা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ এনসিপির নেতাদের বাকবিতণ্ডা হয়। দীর্ঘসময় পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ নেতারা রাস্তায় বসে পড়েন।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে সড়ক বন্ধ করে তাদের গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ।
পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধা পেরিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবার হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। তবে কিছুদূর যাওয়ার পর ফের পুলিশের বাধায় আটকা পড়েন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পুলিশ গাড়িবহর আটকে দিলে সেখানে বসে পড়েন নেতারা। পরে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ নেতারা।
বাগ্বিতণ্ডার সময় পুলিশের এক কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “নিরাপত্তার জন্য থ্রেট (হুমকি) কারা? নিরাপত্তার থ্রেট কারা? আপনি তাদের না ধরে, আমাদের রাস্তা আটকাচ্ছেন? আপনি হবিগঞ্জে হচ্ছে ১৪৪ ধারা দিসেন, শ্রীমঙ্গলের রাস্তা আটকাচ্ছেন? আপনি বেআইনি কাজ করছেন। তাহলে আপনি আবার কথা বলতেসেন কেন? আপনি আইনের লোক না, আপনি আইনের লোক তো? বলেন কোন আইনে আপনি আমাকে এখানে বাধা দিচ্ছেন?”
পরে পুলিশের একজনকে বলতে শোনা যায়, তাদের সীমানা পাড় হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তখন হাসনাত বলেন, “ক্ষতি হতে পারে, ক্ষতি হতে পারে। তাইলে আপনি যদি পারেন সিকিউরিটি দিবেন, যদি না পারেন তাহলে আমরা আমাদের দায়িত্ব নিয়ে চলে যাব।”
ব্যারিকেডের সামনে সারজিস আলমকে বলতে শোনা যায়, “বিএনপি সরকার, তারা এখন সরকারকে দিয়ে প্রশাসনকে আবার আওয়ামী লীগের মতো ব্যবহার করবে। ওয়ান ফোরটিফোরের (১৪৪ ধারা) ধারে কাছেও যাইনি, আমাদেরকে আটকায়ে দিসে।”
এর আগে, বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ পৌর শহরে সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে সেখানে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয় এনসিপি।