রংপুরে ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাবের জেরে অধ্যক্ষের পদত্যাগ

রংপুরের পীরগাছা বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ একাডেমির (বিএম কলেজ) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মোবাইল ফোনে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ভিকটিম শিক্ষার্থীর স্বজনরা ওই শিক্ষকের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ওই কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আইয়ুব হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ওই কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অভিযুক্ত অধ্যক্ষের অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

খবর পেয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোজাক্কি জায়িদ ইমরুল ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে তাকে অপসারণ সেইসঙ্গে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, বুধবার (২৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ওই অডিওতে শোনা যায়, ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর দেওয়া এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিচ্ছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের। তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং শিক্ষককে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এ ঘটনা জানার পর পুরো পীরগাছা উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্তর অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ আব্দুল কাদের কলেজ থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে, ভুক্তভোগি শিক্ষার্থী বলেন, “বাবা-মায়ের পরই শিক্ষকের স্থান। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি শিক্ষকতার মর্যাদা হারিয়েছেন। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য লিখিত আবেদন করেন।

সার্বিক ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”