Wednesday, September 23, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চুয়েটে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’

শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, গণঅবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে এসব কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে মূল ফটকে তালা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে।

এদিন বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান ও দাবির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে মাত্র ৫৬ দিন আগে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে আকস্মিক এই পরিবর্তনের কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তাদের আপত্তি হলো, কোনো দৃশ্যমান কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এরপর জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।

বুধবার ছুটির দিন হলেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন তারা। ফটকে তালা ঝুলিয়ে শাটডাউন কার্যকর রাখার পাশাপাশি শুরু হয় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে স্বাক্ষর করেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ২১ সেপ্টেম্বরের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ এখন গণঅবস্থান, শাটডাউন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে আরও সুসংগঠিত হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী অরিন্দম দে, মাহতাব হক, সাকিব হাসান, মাহিরা তাজরী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে কিছু সংবাদ প্রতিবেদন, শিরোনাম ও ব্যক্তিগত বক্তব্যে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অনুমাননির্ভর রাজনৈতিক পরিচয় এবং দলীয় দ্বন্দ্বের কাঠামোয় উপস্থাপনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। কোথাও শিক্ষার্থীদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনুসারী হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে, আবার কোথাও পুরো ঘটনাকে দুই রাজনৈতিক পক্ষের টানাপোড়েন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

এ ধরনের অনুমাননির্ভর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা বলেন, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলনকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর পরিচয়ে আবদ্ধ না করে আন্দোলনের ঘোষিত দাবি, ঘটনাপ্রবাহ ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।

তারা জানান, আমাদের একমাত্র দাবি, সদ্য জারি করা উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন, গণঅবস্থান, গণস্বাক্ষর ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

   

About

Popular Links

x