গ্রাহক পর্যায়ে ৫% হারে পানির দাম বাড়াতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা।
শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীতে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সভায় সংস্থার বাণিজ্যিক বিভাগ একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে।
তবে ওয়াসার নবনিযুক্ত ব্যবস্থা পরিচালক (এমডি) সেলিম মো. জানে আলম বলেন, “ওয়াসার বিধি মোতাবেক এই প্রস্তাব করা হলেও তিনি সভায় এ বিষয়ে সম্মতি দেননি। প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।”
ওই কমিটি ওয়াসার সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে তাদের সুপারিশ জানাবে।
বোর্ড সভায় আলোচনার পর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষ্ণু কুমার দেকে আহ্বায়ক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে এবং বোর্ড সদস্য বেগম সৈয়দা জেরিন হোসেন ও রাসেল মিয়াকে সদস্য করে চার সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটি পরবর্তী বোর্ড সভার আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ দেবে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে গভীর নলকূপের বদলে নদীর পানি শোধন করায় ওয়াসার উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণে নেওয়া বড় প্রকল্পগুলোর কিস্তি পরিশোধের আর্থিক চাপও রয়েছে। মূলত উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করতেই পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মো. জানে আলম সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)-কে বলেন, “আইন অনুযায়ী প্রতিবছর ৫% পর্যন্ত পানির দাম বাড়ানোর সুযোগ থাকায় রাজস্ব বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব এসেছে। তবে গ্রাহক ও পেশাজীবীদের মতামত নিয়ে কমিটির দেওয়া সুপারিশের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড।”
সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রতি ইউনিট পানির দাম ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সংস্থাটি। বর্তমানে এক হাজার লিটার পানির দাম আবাসিক সংযোগে ১৮ টাকা এবং অনাবাসিক সংযোগে ৩৭ টাকা। তখন আবাসিকে ১৮ টাকার পরিবর্তে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং অনাবাসিকে ৩৭ টাকার পরিবর্তে ৫৫ টাকা ৫০ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা।