বেনজীর আহমেদের মুক্তির খবর, যা বলছে বাংলাদেশ পুলিশ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই মুক্তির বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ কিংবা আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পায়নি বাংলাদেশ পুলিশ।

বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাওয়ার পর তা যাচাই করতে পুলিশ ও এনসিবি শাখার একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সরকারি ছুটির কারণে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর কারামুক্তির এই সম্ভাবনাকে একদম উড়িয়ে দিচ্ছে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, ‘‘বেনজীর আহমেদের কারামুক্তির ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো বার্তা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র পৌঁছায়নি। দুবাই পুলিশ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।’’

অন্যদিকে সাবেক এই আইজিপির ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের দাবি,  বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি দুবাইয়ের কারাগার থেকে বের হয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কিছুদিন পূর্বে বেনজীর ও তার পরিবারের অঢেল অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে এলে তিনি গোপনে দেশত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা ও তাহসীন রাইসার বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে।

মামলায় অনুসন্ধানের পর ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। বর্তমানে আদালতের আদেশে বেনজীর পরিবারের বিপুল পরিমাণ ফ্ল্যাট, জমি, শেয়ার, ব্যাংক হিসাব ও বিও অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ (জব্দ) অবস্থায় রয়েছে।