রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন নিপীড়ন মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াতে ইসলামীর এক রুকনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার নাম ওমর ফারুক (৩৫)। তিনি উপজেলার পাকারমাথা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক।
রবিবার (২ আগস্ট) উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সভায় ওমর ফারুককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি জামায়াতে ইসলামীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুকন ছিলেন। তার ভাই আবু বকর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।
শিশুকে যৌন হয়রানির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ওমর ফারুক এখন কারাগারে। শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের আদেশে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওমর ফারুককে তার বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। পরে রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হন ওমর ফারুক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওমর ফারুক ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতেই শিশুদের প্রাইভেট পড়ান। গত ১২ জুলাই প্রতিদিনের মতো ৯ বছর বয়সী ওই শিশু প্রাইভেট পড়তে গেলে অন্য শিক্ষার্থীদের কৌশলে বিদায় করে দেন ফারুক। পরে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করেন। বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা বলে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান মিলন বলেন, “আমরা ওই শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। ওমর ফারুকের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নৈতিক স্খলনের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ব্যাপারে গত রবিবার উপজেলা জামায়াতের সভা হয়েছে। সভায় ইউনিয়ন জামায়াতের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সেই সভায় ওমর ফারুককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।”