প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে গেলেন স্ত্রী

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ হয়ে বিদেশ থেকে ফেরা এক প্রবাসীকে গভীর রাতে নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। 

শনিবার রাতভর বৃষ্টি ও ঠান্ডার মধ্যে গ্রামীণ রাস্তায় পড়ে থাকার পর রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে স্বজনরা এসে তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেন। অসুস্থ ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন ওরফে মিস্টার (৫৫)। তিনি সখীপুরের কালমেঘা গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে জামাল উদ্দিন পৈতৃক ভিটা বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সাথে গাজীপুরের শ্রীপুরে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব পাড়ি জমান এবং দীর্ঘ ১২ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না।

জামাল উদ্দিনের স্বজনদের দাবি, প্রবাসে অর্জিত সব অর্থ তিনি স্ত্রীর কাছেই পাঠাতেন। কিন্তু অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর স্ত্রী ও সন্তানরা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ উঠেছে, গত শনিবার গভীর রাতে স্ত্রী ও সন্তানরা মিলে জামালকে কালমেঘা গ্রামের একটি রাস্তার পাশে প্লাস্টিকের বস্তার ওপর ফেলে রেখে চলে যান। সকালে স্থানীয়রা তার পাশে দুটি ব্যাগসহ তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তার ভাতিজি ইসমত আরা তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

জামালের ভাই আবদুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বিদেশে উপার্জিত সব টাকা স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছে। আজ ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রাখা চরম অমানবিক।’’

তবে এ বিষয়ে জামালের স্ত্রী রিনা আক্তারের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অপরদিকে পোশাক শ্রমিক ছেলে আবু রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে জেনেছেন এবং অসুস্থ বাবার সাথে এমন আচরণ অন্যায্য হয়েছে।

এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ব্যাপক নিন্দার ঝড় ওঠে। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে ফেলে রাখা মানবিক অপরাধ। পরিষদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে জামালের চিকিৎসা ও থাকার সামাজিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।