তনু হত্যা মামলা: জামিনে কারামুক্ত সাবেক সেনা হাফিজুর

কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান হাইকোর্টের দেওয়া জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে আরও ২ সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। 

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, হাইকোর্টের জামিনের আদেশ পাওয়ার পর সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাফিজুর রহমানকে কারামুক্ত করা হয়েছে। 

এর আগে, গত রবিবার বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন। 

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসভবন থেকে তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

এর আগে, গত ৮ জুন তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই জানিয়েছে, দুজনই বর্তমানে পলাতক। 

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

মামলাটি প্রথমে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সিআইডি তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। ২০১৭ সালে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হলেও তা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।

পরে, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।