চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে নওগাঁ শহরের দেয়ালজুড়ে আঁকা হয়েছিল শতাধিক গ্রাফিতি ও আর্ট।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ, সম্প্রীতির বাংলাদেশ এবং নতুন রাষ্ট্রের স্বপ্ন রঙ-তুলির আঁচড়ে স্থান পেয়েছিল এসব দেয়ালচিত্রে।
গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর না পেরোতেই সেই শিল্পকর্মগুলোর বড় একটি অংশ হারিয়ে যেতে বসেছে। কোথাও বৃষ্টি-রোদে রং বিবর্ণ হয়েছে, কোথাও দেয়ালে নতুন রংয়ের প্রলেপ পড়েছে, আবার কোথাও রাজনৈতিক পোস্টার ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের আড়ালে চাপা পড়েছে আন্দোলনের স্মৃতি। সংস্কারকাজের সময়ও মুছে গেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রাফিতি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা, কেডির মোড়, নওগাঁ সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা সদরগুলোতে হাজার হাজার গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল। অধিকাংশ দেয়ালে স্থান পেয়েছিল রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের প্রতিকৃতি।
এসবে লেখা হয়েছিল- ‘সবাই মিলে গড়বো দেশ, চলরে নওজোয়ান শোনাও পাতিয়া কান...’, ‘দেশটা কারোর বাপের না’, ‘স্বাধীনতার সূর্যোদয়’, ‘৩৬শে জুলাই’, ‘বিকল্প কে? আমি, তুমি, আমরা’, ‘বিকল্প কে? ছাত্র’, ‘কারার ঐ লৌহকপাট’, ‘এবার সভ্যতা আনব’, ‘স্বাধীনতা এনেছি, সংস্কারও আনবো’, ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’-এর মতো অসংখ্য স্লোগান।
নওগাঁ শহরের কেডির মোড় এলাকায় সেসময় গ্রাফিতি অঙ্কনকারী নওগাঁ বিএমসি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী দিপিকা বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বীকৃতির জন্য নয়, একটি ঐতিহাসিক সময়কে রঙ-তুলির মাধ্যমে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে গ্রাফিতি এঁকেছিলাম। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো মুছে যেতে দেখে কষ্ট লাগে।”
রাজশাহী কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাবরিনা সূচি বলেন, “গ্রাফিতিগুলো শুধু শিল্পকর্ম নয়, এগুলো আমাদের সময়ের দলিল। ইতিহাস শুধু বইয়ে লেখা থাকে না, দেয়ালেও লেখা থাকে।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। তাই গ্রাফিতির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে রাখা জরুরি। দেওয়ালে লেখা এই বার্তাগুলো মানুষকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে-কেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং সেই আন্দোলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী ছিল।”