Friday, September 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাজশাহীতে নারীসহ ফ্ল্যাটে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা থানা হেফাজতে

চন্দ্রিমার একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে বের করে আনে ফায়ার সার্ভিস 

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা। রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় এক নারী অনবরত কড়া নাড়ছেন। ভেতরে তার স্বামী রয়েছেন-এমন দাবি তার। কিন্তু দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাডাকি করেও দরজা খুলছিলেন না কেউ। একপর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন তিনি। পুলিশ এলেও দরজা খোলেনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢোকে। ভেতর থেকে বের করে আনা হয় এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে। পরে দুজনকেই নেওয়া হয় থানায়। 

‎শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

ফ্ল্যাট থেকে থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। 

‎পরে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। তবে প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির কমান্ড্যান্ট। 

এদিকে, ‎আটক হওয়া সেই নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে মাহবুব আলম দাবি করেন, আটক হওয়া নারী তার স্ত্রী। এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। 

অন্যদিকে ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে অবস্থান নেওয়া আরেকজন নারী নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, ওই নারীকে ৪ দিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন। 

স্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই নারীর অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন- মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। 

স্ত্রী পরিচয় দেওয়া নারীর ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব তার ‘কথিত পালিত মেয়ে’র ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে আরেকজন নারী রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। 

‎পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ভেতরে মাহবুব আলম রয়েছেন জানতে পেরে পুলিশ দরজা ভাঙেনি বলে দাবি করেন তিনি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে দেন। 

‎দরজা খোলার পর মাহবুব আলম ও ফ্ল্যাটে অবস্থান করা নারীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। 

‎থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকেরা মাহবুব আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, তার স্ত্রীকে তিনি তালাক দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন। 

‎পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৪ দিন আগে মাহবুব তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ দিয়েছেন। তবে তার স্ত্রীর দাবি, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি। 

‎এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন মাহবুবের স্ত্রী পরিচয় দেওয়া সেই নারী।  

‎চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, মাহবুব আলম ওই সেই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসবেন। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

‎সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, তিনি কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। 

তিনি আরও বলেন, ‘‘মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।’’ 

   

About

Popular Links

x