পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও পরে জোর করে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে বিকাশ সিকদার নামের একজন হোমিও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের এক যুবক জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমান। এদিকে সংসারে বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা থাকায় তার স্ত্রী পাশের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। গত ১৫ নভেম্বর প্রতিবেশী বিমল শিকদারের ছেলে বিকাশ সিকদার নিজের স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে রান্নার অজুহাতে ওই নারীকে বাসায় ডেকে নেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এখানেই থেমে থাকেননি অভিযুক্ত পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আপত্তিকর খুদে বার্তা পাঠিয়ে তাকে হয়রানি করতে থাকেন।
লোকলজ্জা আর অসহায়ত্বের কারণে দীর্ঘদিন মুখ বুজে ছিলেন ভুক্তভোগী। প্রায় দুই মাস পর নিজেকে গর্ভবতী বলে সন্দেহ হলে বিষয়টি তিনি জানান তার ননদকে। ঘটনা প্রকাশ পেয়ে গেলে বিকাশ সিকদার ওষুধ খাইয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা চালান।
এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই নারী। তাকে চিকিৎসার জন্য মঠবাড়িয়া ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানে তার ডি অ্যান্ড সি অপারেশন করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর গত ২০ মার্চ মামলা করতে মঠবাড়িয়া থানায় যান তিনি।
বিষয়টি জানার পর বিকাশ সিকদার নিজের দলবল দিয়ে স্থানীয়ভাবে চাপ প্রয়োগ করে মামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার সালিশ মানতে রাজি না হয়ে গত ২৮ জুলাই পিরোজপুর জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার চেয়ে মামলা করেন।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানান, মামলা করতে থানায় এলে ভুক্তভোগীর স্বজনরাই তাকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দিয়েছিলেন, যে কারণে তখন থানায় মামলা হয়নি। পরে এলাকায় সুরাহা না পেয়েই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে ধারণা করছেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলম জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিকাশ সিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই ওই নারী মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।