শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নে এক হত্যা মামলার সাক্ষী বাবাকে হত্যা করে গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) সকালে হালুয়াহাটী গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হকের মরদেহ তার বাড়ির পাশে একটি গাছের ডালে অর্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দুপুরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ২৩ মার্চ পুলিশের উপস্থিতিতেই দিনের বেলায় বাড়ির আঙিনায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় শেখবর আলীকে। এ ঘটনায় স্থানীয় জাকির হোসেন জিকো ও তার ভাই গোলাম মোস্তফাসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের ভাই। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং আসামিরা জামিনে আছেন। শিগগিরই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল।
নিহত মোফাজ্জল হকের মেয়ে জানান, ঘটনার দুই দিন আগে তাদের বাবা বলেছিলেন, তিনি এক ছেলে হারিয়েছেন, আরেক ছেলে হারাতে পারেন। বাজারে গেলেও শান্তি পেতেন না, লোকজন মামলা আপস করার জন্য চাপ দিত। তারা জানান, ফজরের নামাজ পড়তে ভোরে মসজিদে গিয়ে আর ফেরেননি বাবা। খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পেছনে গাছের সঙ্গে অর্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। মেয়েদের দাবি, তাদের বাবা আত্মহত্যা করেননি কারণ লাশের এক পা মাটিতে লাগানো ছিল, অন্য পা উঠানো ছিল, যা ফাঁস দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাদের সন্দেহ, জিকু ও সাইফুল এ ঘটনায় জড়িত।
অভিযুক্ত জিকোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ভাই গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, তিনি এলাকায় থাকেন না এবং মোফাজ্জল ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে শুনেছেন। জিকো ও সাইফুলের নিকটাত্মীয়রাও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তারা মিথ্যা অভিযোগের শিকার হচ্ছেন।”
রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগ বলেন, “নিহত ব্যক্তি নিজে ফাঁস টানিয়ে মারা যাননি বলে ধারণা; বরং হত্যার পর আত্মহত্যার মতো করে সাজানো হয়েছে।”
শ্রীবরদী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।