ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচির কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী টায়ার জালিয়ে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
অবরোধ চলাকালে এলাকাবাসীর পক্ষে রানা সিকদার ও মুনাব্বির বিল্লাহ জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরব প্রান্তে ইজারার নামে বালু খেকো সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে প্রতিদিন আশুগঞ্জ এলাকার থেকে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে। এতে করে আশুগঞ্জ অংশের নদীর তীরবর্তী ফসলের জমি, আশুগঞ্জের মাঝ নদীতে জেগে ওঠা শত বছরের প্রাচীন গ্রাম সোনামপুর গ্রামটিও মেঘনায় বিলীন হওয়া আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
তারা আরও জানান, বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর, তাজপুর ও সোহাগপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ফসলি জমি নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়েছে। গ্রামবাসী সকালে বালু উত্তোলনকারীদের বাধা দিতে গেলে, বালু সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীকে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী নদী থেকে ফিরে মিছিল নিয়ে বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এসে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে।
বিক্ষোভকারীরা বালু সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এসময় এলাকাবাসীর সঙ্গে বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।
তিনি গ্রামবাসীর দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, ‘‘আমি ডিসির সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী দুদিনের মধ্যে বালু উত্তোলন বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যথায় আপনারা আবারও মহাসড়ক অবরোধ করতে পারেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’’ বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও অবহিত করবেন বলে আশ্বাস দেন। পরে আন্দোলনরত এলাকাবাসী মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
এসময় আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম শফিকুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তারা অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।