আবারও বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

দেশে টানা কয়েক মাস কমার পর উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম এবার লিটারে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম রবিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। এর আগে গত মাসে জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ১৯ টাকা ২২ পয়সা কমানো হয়েছিল।

রবিবার (৯ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করে আসছে সংস্থাটি।

বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা। আগে এই দাম ছিল ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা। অর্থাৎ লিটারে দাম বেড়েছে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটারের দাম শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ০৩৫৮ ডলার করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর ইরান তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে মার্কিন অবস্থানে হামলা শুরু হলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

দুই পক্ষের হামলায় জ্বালানি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে। পরে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করে।

আগে দেশে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়।

এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি করে বিইআরসি। এরপর থেকে প্রতি মাসে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।