৩ দিনের রিমান্ডে এনসিপি নেতা তানভীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে (৪২) তিনদিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুদুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানী শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্র জানায়, গাজী সালাউদ্দিন তানভীর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব। তিনি সম্প্রতি ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ত করে মানহানিকর পোস্ট দেন। এতে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা শহরের সাতমাথায় তানভীরের পোস্টার ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। তাকে বগুড়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক চিঠিতে তাকে (তানভীর) সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেন। এ ব্যাপারে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এইচএস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল তার বিরুদ্ধে সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।

এদিকে গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মনিপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে  তানভীরকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া ডিবি ও সদর থানা পুলিশ।  পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। 

সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুদুর রহমান। আদালত শুনানি শেষে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বিকালে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান।

এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় এনসিপি গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়। সেসময় তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক নিয়োগে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্য বই ছাপার কাগজে কমিশন-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে পরবর্তীতে দল তার সাময়িক অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার করে। তাকে আগের মত সাংঠনিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়।

গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার নির্ধারিত সময়ের পর বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরে ঢুকতে দিতে দেরি করায় তিনি নিরাপত্তা কর্মী বাপ্পী মিয়াকে মারধর করেন। এছাড়া, জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানাসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে এনসিপি নেতা তানভীরের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় জিডি করেন রাজিয়া সুলতানা। এ নিয়ে ওই সময় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।