দেশজুড়ে আবারও গ্যাস-সংকট, এলএনজি সরবরাহ নেমেছে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে

চার দিন সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশে আবারও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। দৈনিক ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত ওঠা সরবরাহ ফের নেমে এসেছে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে দেশের গ্যাস চাহিদা মেটাতে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালনায় দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) সক্রিয় রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সর্বোচ্চ সরবরাহ ক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে গত জুলাইয়ের শেষদিকে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে আগুন লাগার ঘটনার পর থেকেই সরবরাহ কমে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছিল।

এফএসআরইউ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্র উত্তাল থাকায় সামিটের এফএসআরইউর সঙ্গে নতুন কার্গো বার্থিং সম্ভব হয়নি, যার ফলে সরবরাহ আবার কমে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন কার্গো সংযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংকট কাটার সুনির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না।

ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটি বর্তমানে দুটি বয়লারের একটি দিয়ে চলছে। পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে বাকি বয়লারটি সচল করা প্রয়োজন, যার জন্য পুরো টার্মিনালের উৎপাদন সাময়িকভাবে ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশে নতুন ও বৃহৎ পরিসরের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সরকারের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। সরকার তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চেয়েছে, যা পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করা হবে।

নতুন এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির প্রকল্প সরাসরি অনুমোদিত হয়নি। সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে সরকার-থেকে-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে, অর্থাৎ সরাসরি অন্য দেশের সরকার বা সরকার-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে যোগ্যদের মূল্যায়ন করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে, এবং সেই অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।