নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাঁদা দাবি, ক্ষতিসাধন ও হত্যার হুমকির লিখিত অভিযোগ তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত)সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিউদ্দিন, কনস্টেবল সাহাদাত হোসেন, আবু ইউসুফ ও গাড়িচালক ইছাক শেখ। আহতরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আটক সাতজন হলেন ছেমনা খাতুন (৫০), বিয়াধনি (৬৫), মনোয়ারা (৪০), আয়েশা (৪০), অজি উল্লা (৭০), আবু সুফিয়ান (২৮) ও বোবা জাবের (৪৫)।
পুলিশ জানায়, বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দারুল ইহসান মাদ্রাসার চেয়ারম্যান নুরুল আবসার সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, ক্ষতিসাধন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাটি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যাচ্ছিল।
পরে বাদী নুরুল আবসার পুলিশকে ফোন করে জানান, অভিযুক্তরা মাদ্রাসায় ঢুকে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুরের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা লাঠি ও ইটপাটকেল দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
এ সময় ওসি (তদন্ত)সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহতদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্টের একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”