খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটিতে একটি ইটভাটার ভেতরে ঢুকে ফখরুল শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে নৈহাটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কিসমত খুলনা গ্রামের রূপসা ব্রিকস ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফখরুল শেখ নৈহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে যুবদলের কর্মী। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, ইটভাটাটি ফখরুলদের মালিকানাধীন। ভাটায় বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার জন্য তিনি মাঝে মধ্যে রাতে সেখানে পাহারার দায়িত্ব পালন করতেন। ঘটনার রাতে ফখরুল ইটভাটার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। রাত ১টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে রাত ১টা ১১ মিনিটের দিকে তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পান মেজ ভাই ফরহাদ শেখ। স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফখরুলকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানায়, নিহতের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল রূপসা ব্রিকস ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন। ফখরুল প্রতিদিনের মতো ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনার জন্য মঙ্গলবার রাতে ওই ভাটায় যান।
এর আগে, ওইদিন বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সঙ্গে ফখরুলের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে তৈয়ব রাতে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় ভাটায় অবস্থানকালে রাত ১টায় ভাটার অফিস রুমের পাশে একদল অস্ত্রধারী ফখরুলের ওপর গুলি চালায়। একটি গুলি লাগে ঘাড়ে। আরেকটি ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে। তবে কারা এবং কী কারণে ফখরুলকে হত্যা করেছে, তা পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
এদিকে, ঘটনার পর পর খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ আরও তিনভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ফখরুলকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ফরহাদ জানায়, আমার ভাই ফখরুল রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে যুবদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমার ভাটার ক্যানেলে ও মাছ চাষ করতো। রাতে ওর মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় ওর সঙ্গে দেখা হলে আমাকে জানায় ওষুধ নিয়ে ভাটা থেকে ঘুরে বাড়ি ফিরবে।
তিনি বলেন, “রাত ১টা ১১ মিনিটে ওর বন্ধু আমাকে ফোন করে বলে ভাই ফখরুলকে কারা যেন মারছে, আপনি দ্রুত আসেন। খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি অফিসের পাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে।”
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, “খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে থানা পুলিশ। লাশের সুরতহালে দেখা যায় তার শরীরে দুইটি গুলি লেগেছে। রাতে তার ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”