Tuesday, October 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছেলে হত্যার ৫০ দিন পর বাবাকেও গুলি করে হত্যা

রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ এএম

খুলনায় ছেলে হত্যার ৫০ দিন পর আক্তার ঢালী নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত ১৫ আগস্ট রাতে তার ছেলে জয় ঢালীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ছেলের হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন আক্তার ঢালী।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা বাইরে এসে তাকে বেঞ্চের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মী মুরাদ হোসেন জানান, আক্তার ঢালীর ডান কাঁধে গুলির আঘাত ছিল। এছাড়া শরীরে ছররা গুলির আঘাতও থাকতে পারে।

পুলিশ জানায়, গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রূপসার শহীদের মোড় এলাকায় জয় ঢালীর ওপর হামলা চালায় ৪-৫ জনের একটি দল। হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। ওই হত্যাকাণ্ডের ৫০ দিন পর এবার খুন হলেন জয় ঢালীর বাবা আক্তার ঢালী।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, “আক্তার ঢালীকে গুলি করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।”

ছেলে হত্যার পর নিরাপত্তা চেয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় জিডি করেছিলেন আক্তার ঢালী। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সেনেরবাজার এলাকায় মুনজিল শেখ, মোরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যাসহ কয়েকজন তাকে একপাশে ডেকে নিয়ে ছেলে হত্যার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। মামলা না তুললে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

জিডিতে আরও বলা হয়, তার ছেলে জয় ঢালীকে শহীদের মোড় এলাকায় কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তাদের হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলেও উল্লেখ করেন আক্তার ঢালী।

রূপসা থানার জিডিটি দুই দিন পর, ২৩ সেপ্টেম্বর নথিভুক্ত করা হয়। জিডির নম্বর ১৪১২। এর প্রায় ১২ দিন পরই গুলিতে নিহত হলেন আক্তার ঢালী।

   

About

Popular Links

x