স্বামীর কেনা জমিতে স্ত্রীকে দাফনে বাধা, খাস জমিতে শেষশয্যা

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীর কেনা জমিতে স্ত্রীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ায় ১৯ ঘণ্টা পর খাস জমিতে কবর দিয়েছেন মৃতের ছেলে ও স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের খাস জমিতে ওই নারীকে দাফন করা হয়। মৃতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শ্রীমতি মেনোকা (৬০) শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে আদিবাসী মান্দাই সম্প্রদায়ের ওই বয়স্ক নারীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বসলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা করতে পারেননি। পরে ১৯ ঘণ্টা পর বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশেই খাস জমিতে মেনোকাকে দাফন করেন ছেল ও স্বজনরা।

মেনোকার ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ বলেন, “প্রায় ৪-৫ বছর আগে সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন তার বাবা। তার মা মারা গেলে ওই জমিতে দাফন করতে গেলে সফির উদ্দিন বাধা দেন। আমরা আদিবাসী বলে আমাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা হলো।”

তিনি আরও জানান, মেনোকা তার সৎ মা। তার বাবা শ্রী গোপাল প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রী মেনোকা ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন গোপাল। মিউটেশন (খারিজ) জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল। তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বিক্রেতা সফির উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এখন তার মায়ের মরদেহ তার বাবার কেনা জমিতে দাফনে বাধা দেন।

আরেক ছেলে নির্ধারণ বলেন, “বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদেহ দাফনের জন্য কবর খনন করতে গেলে সফির উদ্দিন, তার স্ত্রী ও সন্তানরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে বাধা দেন। সফির উদ্দিন জমি বিক্রির বিষয়টিও অস্বীকার করছেন। জমি কিনেও মায়ের মরদেহ দাফন করতে পারলাম না। স্বজনরা কেউ মারা গেলে দাফনের জায়গাও আমাদের নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে সফির উদ্দিন বলেন, “আমার জমিতে আদিবাসী (মান্দাই) নারীকে দাফন করতে দেব না। তাদের কাছে আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি এবং কোনো টাকাপয়সাও নেইনি।”

স্থানীয় বিএনপি নেতা মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, “সফির উদ্দিনকে আমরা অনেক বুঝিয়েও কোনো সমাধান করতে পারিনি। ওই আদিবাসী বৃদ্ধাকে দাফন করা সম্ভব হয়নি।”

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই ব্যক্তিকে বুঝানো হলেও তিনি দাফন করতে দেননি। পরে মৃতের স্বজনরা খাস জমিতে তাকে দাফন করেন।”