ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার গেলো দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রেশার কুকারের মধ্যে প্রস্তুত করা শক্তিশালী দুটি বোমাসহ অন্তত ১৬টি বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এই বোমার সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) লিফলেট উদ্ধারের তথ্যও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে।
গেল দেড় মাসের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বিস্ফোরণ, ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে এক যুবকের হাতের কবজি ও আঙুল উড়ে যাওয়া, এক অভিযানে ১৪টি পাইপ বোমা উদ্ধার এবং পৃথক ঘটনায় প্রেসারকুকার আকৃতির বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পৃথক মামলা হলেও এখনও এই ঘটনার নেপথ্যের ঘটনা উদঘাটন ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখ শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাটিতে বিস্ফোরক ও জঙ্গি তৎপরতার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত দুই দশকে এ এলাকায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য গ্রেপ্তার এবং বোমা বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার কাছে ঘনবসতি ও ভাসমান মানুষের আধিক্যসহ নানা কারণে এই অঞ্চলকে এই ধরণের মতাদর্শীরা সুবিধাজনক এলাকা হিসেবে বেছে নেয়।
১২ দিনে পৃথক তিন এলাকায় উদ্ধার ১৬ শক্তিশালী বোমা, দুই বিস্ফোরণ
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গভীর রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকায় জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এটি নিষ্ক্রিয় করে। পুলিশ জানায়, তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ড্রামটি সেখানে রেখে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসারকুকারটিকে শক্তিশালী বোমা শনাক্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। বুধবার বিকেলে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ সময় বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
এছাড়া মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় একটি বাড়ি থেকে নয়টি বিস্ফোরক, বিপুল পরিমাণ গানপাউডার ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচটি বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালানো হয়। সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে অভিযান শেষ হয়। সবমিলিয়ে উদ্ধার হয় ১৪টি পাইপবোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে একটি বাড়ি থেকে আরও নয়টি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়।
গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ খেজুর বাগান এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেটি একটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন। পুলিশ জানায়, কে বা কারা এটি সেখানে রেখেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়।
এর কয়েক দিন আগে, ১১ জুলাই আশুলিয়ার ভাদাইল পাবনারটেক পশ্চিমপাড়া এলাকায় ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে রনি (২০) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, রনি ওই ঘরে একা ছিলেন এবং ককটেল তৈরির চেষ্টা করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলে সিটিটিসির সদস্যরাও গিয়ে তদন্ত করেন।
এরও আগে, গত ৬ জুলাই সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা শেষে সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন। তাদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে এনসিপির নেতা-কর্মীরা সাভার মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘটনায় প্রশাসনের সহায়তার অভিযোগ করেন।
ধোঁয়াশায় পুলিশ, মামলায় অগ্রগতি নেই: এসপির দাবি, ‘বড় ও ধ্বংসাত্মক বোমা ছিল দুটি, উদ্ধার সবগুলোই’
এক মাসের ব্যবধানে এসব ঘটনায় কখনো বিস্ফোরণ ঘটেছে, কখনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। সর্বশেষ বাড়ি থেকে একসঙ্গে নয়টি বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, সাভার-আশুলিয়া এলাকায় এসব বিস্ফোরক কীভাবে আসছে এবং কারা এগুলো তৈরি বা মজুত করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও তল্লাশি জোরদারের কথাও জানানো হয়েছে।
৩০ জুলাই উদ্ধার হওয়া প্রেসার কুকারসদৃশ শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ককটেল তৈরির ঘটনায়ও মামলা করা হয়েছে। দুটি ঘটনাতেই এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় নির্দিষ্ট কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে হেমায়েতপুরের ঘটনায় যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওই ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও আমরা খতিয়ে দেখছি।’
অন্যদিকে ১১ আগস্ট প্রেসার কুকারসদৃশ শক্তিশালী বোমা উদ্ধার, একই রাতে ১৪টি বোমাসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার ও ৬ জুলাই এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটেছে সাভার মডেল থানা এলাকায়। এসব ঘটনায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনায় করা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, গতকালের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বাসাটি যিনি ভাড়া নিয়েছিলেন, একজন পলাতক। তিনি স্ত্রীকে আনার কথা বললেও তাকে আনেননি। ছিলেন একজনই। তিনি এখনও পলাতক। বিষয়টি নিয়ে এন্টি টেররিজম ইউনিট কাজ করছে। তাদের অগ্রগতিও রয়েছে।
এসব বিষয়ে কথা হয় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল, তারা দুটি বড় ও ধ্বংসাত্মক বোমা তৈরি করেছে। দুটিই আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আমাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য আসে। দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের তৈরি করা দুটি বোমাই উদ্ধার করেছি। এর আগে একটি পেয়েছি, আজ সকালে আরেকটি পেয়েছি। এ ছাড়া গতকালও বিভিন্ন অনুসন্ধান করা হয়েছে। অনুসন্ধানের পর আমরা অনেক বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি এবং সেগুলো সাভারেই ধ্বংস করেছি।’
তিনি বলেন, ‘কোনো অঘটন ছাড়াই আমরা সবকিছু উদ্ধার করতে পেরেছি। আপনারা কানীগঞ্জের ঘটনাও দেখেছেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল। আমাদের এই এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে শ্রমিকেরা থাকেন এবং তারা অনেকটাই ভাসমান। আজ আসেন, কাল থাকেন না-এ ধরনের একটি পরিস্থিতি এখানে রয়েছে। আমার মনে হয়, এই সুযোগগুলোই তারা কাজে লাগাচ্ছে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে এসপি বলেন, ‘আমরা গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পথেই কাজ করছি। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ডিএসবি ও ডিবিকে দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টহল বাড়ানো, রাস্তায় রাস্তায় সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া গেলে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ—এসবও বাড়ানো হয়েছে। নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি। এর পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে তথ্য সংগ্রহের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকেরা যেসব এলাকায় থাকেন, সেসব এলাকায় ভাড়াটিয়াদের তথ্য যাচাই এবং টহল আরও বাড়াতে বলা হয়েছে।’
সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে বারবার এলাকার জনগণকে বলছি, আমরা সাভারে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০০ পুলিশ। আর জনগণ প্রায় কোটি। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া শুধু পুলিশের পক্ষে এককভাবে পরিপূর্ণভাবে এসব কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা জনগণের কাছ থেকেই তথ্য নেব, সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কাজ করব।’
সাভার কেন হটস্পট, যা বলছেন বিশেষজ্ঞ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মতো ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলো অপরাধীদের একধরনের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে অল্প টাকায় থাকা এবং বোমা-ককটেল তৈরির মতো কাজ তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় তারা এসব এলাকা বেছে নেয়। অন্য জায়গা থেকেও অপরাধীদের এনে এখানে রাখা হয়।’
তিনি বলেন, ‘এসব ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও পুলিশের সোর্স সক্রিয় করতে হবে। বাড়ির মালিকদের ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র রাখতে এবং চুক্তির কপি থানায় জমা দিতে হবে। নাশকতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি দৃশ্যমান করতে হবে।’
তৌহিদুল হক বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবে এর নামে ভিন্নমতের কাউকে যেন হয়রানি, হামলা বা মামলা করা না হয়।’
প্রেসার কুকার বোমা তৈরির উপাদান সম্পর্কে ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘এসবের কিছু উপাদান বাইরে থেকে আনতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বাইরে থেকে কিছু পদার্থ আনা হয়। আবার কিছু পদার্থ আমাদের দেশেও পাওয়া যায়। সেগুলোর সঙ্গে বাইরে থেকে আনা উপাদান যোগ-বিয়োগ করে মিশ্রণ করে তারা ভয়ানক উপাদান তৈরি করে।’
তিনি বলেন, ‘যেসব উপাদান বাইরে থেকে আসে, সেগুলো কেনাবেচার ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা এগুলো বিক্রি করেন, তারা কার কাছে বিক্রি করছেন, কে কিনছেন, কী উদ্দেশ্যে কিনছেন-এসবের রেকর্ড রাখা যেতে পারে। ক্রেতার মোবাইল নম্বর ও দোকানের ঠিকানা রাখার ব্যবস্থা করা গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ওই রেকর্ড ধরে নজরদারি করা সহজ হবে।’
সাভারে জঙ্গি সংযোগের ইতিহাস, জেএমবির ঢাকা বিভাগের প্রধান ছিলেন সাভারে
সাভারে বিস্ফোরক ও জঙ্গি তৎপরতার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত দুই দশকে এ এলাকায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য গ্রেপ্তার এবং বোমা বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
সাভারে জঙ্গি তৎপরতার বড় ঘটনা ঘটে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। ওই দিন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় একযোগে প্রায় ৪৫৯টি টাইম বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। সেদিন বিকেলে সাভারে ছয়টি বোমা বিস্ফোরণে ১০ বছরের শিশু আবদুস সালাম নিহত হয়। আহত হয় তিন বছর বয়সী আরেক শিশু আনিক। এ ঘটনায় সাভার পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই দিনের হামলার দায় পরে জেএমবি লিফলেট দিয়ে স্বীকার করে।
এর পাঁচ বছর পর ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর সাভারের বলিয়ারপুর এলাকা থেকে জেএমবির ঢাকা বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাদের কাছ থেকে বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে র্যাব। এদের মধ্যে শরিফুল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জয়পুরহাটে সিরিজ বোমা হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিলেন।
এর সাত বছর পর ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল সাভার থেকে জেএমবির সরওয়ার-তামিম গ্রুপের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, প্লাস্টিক বিস্ফোরক, পাঁচটি গুলি ও বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধারের কথা জানানো হয়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তামিম দ্বারী ধর্মান্তরিত হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছিলেন।
ওই একই বছরের ১৬ জুলাই সাভারের আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাবাড়ি এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রাখার পর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন সারোয়ার-তামিম গ্রুপের চার সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে বলছি, ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে এবং পুলিশের সোর্সগুলোকে সক্রিয় করতে হবে। যখন পুলিশের সোর্সগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, তখন এ ধরনের অপরাধীরা নানাভাবে সক্রিয় হয়। তারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী ঢাকার আশপাশের কোনো একটি এলাকা বেছে নেয়। তাই পুলিশের সক্রিয়তা ও ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।’
নাশকতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এ ধরনের নাশকতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক দ্রব্য উৎপাদনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং শাস্তিটা দৃশ্যমান করতে হবে।’
রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আরেকটি বড় প্রতিরোধের জায়গা হচ্ছে, যেহেতু এখন নির্বাচিত সরকার আছে, সেখানে জনপ্রতিনিধিরা আছেন। তাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ৫ আগস্টের পর এটি প্রথম নির্বাচিত সরকার। এখনো রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশ্নে ন্যূনতম মূল্যবোধকেন্দ্রিক সম্পর্কের যথেষ্ট ঘাটতি আছে।’
তিনি বলেন, ‘এই ঘাটতিকেই কাজে লাগিয়ে কোনো একক গোষ্ঠী সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সর্বত্র সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে সতর্ক থাকতে হবে। তবে সতর্ক থাকতে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিপরীত মতাদর্শের কারও ওপর যেন আক্রমণ, হামলা বা মামলা না হয়, সেটিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।’