ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৪টি পাইপ বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর বেশ কিছু লিফলেট উদ্ধার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এ ঘটনায় আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফকে আটক করে সিটিটিসি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, আটকের সময় আরিফের কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিশেষভাবে তৈরি পাঁচটি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে একই ধরনের আরও নয়টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে ওই কক্ষ থেকে বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও উপকরণও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে জেএমবির বেশ কিছু প্রচারপত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া আলামত ও তথ্যের ভিত্তিতে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আটক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে সিটিটিসি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে আগে থেকে তাদের কোনো সন্দেহ ছিল না। তার ভাষ্য, আব্বাস আলী নামের এক ব্যক্তি আরও একজনকে সঙ্গে নিয়ে বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। গত ২ আগস্ট তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়।
ইলমা জানান, ভাড়াটিয়ারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানিয়েছিলেন, তারা পরিবার নিয়ে সেখানে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করাবেন। তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন বলেও জানিয়েছিলেন।
বাড়ির মালিকের পরিবারের দাবি, বাসার ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম রাখা হয়েযা এ বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। তাদের কাছে ওই ব্যক্তিরা সাধারণ ভাড়াটিয়া হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং উদ্ধার হওয়া বোমা ও সরঞ্জামের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে সিটিটিসি।



