রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদাবাজি, দোকান দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর রোডের বলাকা সিনেমা হলের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আটজন এবং নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের অনুসারী সাতজন রয়েছেন। আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের পর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে ছাত্রদল ও যুবদল।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের অনুসারী মো. সোহেল ও আজিম ওরফে “গুন্ডা আজিম” বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতের দোকান ও ভ্যানগাড়ি থেকে চাঁদা তুলতে গেলে তারা বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ছাত্রদলের দাবি, একপর্যায়ে কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
আহত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সায়মন ইসলাম দাবি করেন, যুবদলের নেতাকর্মীরা চাঁদা চাইলে দোকানদারের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাগর খান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে দেখেছেন তারা। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নিউমার্কেট থানা যুবদল। তাদের দাবি, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন সদস্য মার্কেট বন্ধ থাকার সুযোগে কিছু দোকান দখল ও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। তারা এর প্রতিবাদ করে বিষয়টি মীমাংসা করে সেখান থেকে চলে যান।
যুবদল নেতাদের অভিযোগ, পরে ঢাকা কলেজের ৭০ থেকে ৮০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের গলিতে থাকা তাদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় কার্যালয়ের টেলিভিশন, আসবাবপত্র এবং বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলমের ছবি ভাঙচুর করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
যুবদলের পক্ষ থেকেও কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন সংঘর্ষের খবর পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হতাহতের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



