চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নরসিয়া গ্রামে একটি বাড়িতে মজুত রাখা ককটেল একের পর এক বিস্ফোরিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে বাড়িটির দেয়াল ও টিনের চালাসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, নরসিয়া গ্রামের ইউনূসের ছেলে ইয়াহিয়ার বাড়িতে ককটেলগুলো মজুত করা ছিল। রাত ৮টার দিকে ওই বাড়ি থেকে হঠাৎ পরপর বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে বাড়ির ভেতরে বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখতে পান। শব্দে আশপাশের মানুষ ভীত হয়ে পড়েন, অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যান।
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, “রাত ৮টার দিকে ইয়াহিয়ার বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। এতে টিনের চালা উড়ে গেছে এবং দেয়ালের একাংশ ভেঙে পড়েছে।”
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতার উদ্দেশ্যে ককটেলগুলো মজুত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এগুলো সেখানে রেখেছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ককটেলগুলো কীভাবে সেখানে এল এবং কারা জড়িত, তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।”
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। খাটের নিচে রাখা ককটেলগুলোই বিস্ফোরিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাড়ির লোকজন পলাতক। ঘটনাস্থলে বিজিবি সদস্যরা অবস্থান করছেন। জায়গাটি জহুরপুর বিজিবি ক্যাম্প থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। কতগুলো ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। বর্তমানে ওই বাড়ি ও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। ককটেল মজুতের প্রক্রিয়া এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”



